Dhaka , Saturday, 10 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানীগঞ্জ থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার। fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চরকাঁকড়া ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল fa fa-square কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি fa fa-square সেনবাগে এসিডজাতীয় রাসায়নিক পান করে যুবকের মৃত্যু fa fa-square সেনবাগে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালী টাইমস’র বার্তা সম্পাদক হলেন আবদুল আজিজ সায়েম fa fa-square বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সমাবেশে যোগ দিতে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষকদের ঢাকা যাত্রা fa fa-square বামনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মানোন্নয়ন ও কার্যকরী কমিটির সভা fa fa-square নোয়াখালীতে ১০ দিনে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক-গ্রেপ্তার ১১০৬ fa fa-square সেনবাগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অন্য এক নারীর কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তাঁর পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে জানা গেছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, অন্য এক নারীর কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অডিওতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলে তাঁকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জ থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার।

কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: 09:44:42 am, Friday, 9 October 2026

নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অন্য এক নারীর কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তাঁর পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে জানা গেছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, অন্য এক নারীর কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অডিওতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলে তাঁকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।