Dhaka , Monday, 7 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ যুবক আটক, ছিনিয়ে নিতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী fa fa-square জমি বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাসে লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে fa fa-square অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ নিন, কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও কে আবেগঘন আহ্বান মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের, fa fa-square ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীতে ইলিশের সংকট, চড়া দামে বিক্রি fa fa-square নোবিপ্রবির কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুলের জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ fa fa-square সেনবাগে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ২০ মণ মাছ চুরির অভিযোগ fa fa-square নোয়াখালীতে চোখের চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল বন্ধ fa fa-square সুবর্ণচরে পুলিশ দেখে পালানোর সময় পড়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু

ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীতে ইলিশের সংকট, চড়া দামে বিক্রি

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। অথচ নোয়াখালীতে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সরবরাহ। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে হতাশ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইলিশঘাট হিসেবে পরিচিত চেয়ারম্যানঘাটে প্রতিদিন ভোরে নদী থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে অসংখ্য নৌকা। এরপর শুরু হয় মাছ নামানো, বাছাই, নিলাম ও বেচাকেনা।

তবে ইলিশের মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের সরবরাহ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি, নদীতে ইলিশ কমে যাওয়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেক সাধারণ ক্রেতাই ইলিশ কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার কেউ ইলিশের পরিবর্তে অন্য মাছ বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকাসহ ছোট মাছ নিধন, ছোট ইলিশ বড় হওয়ার আগেই ধরে ফেলা এবং মা ইলিশ শিকারের কারণে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কমছে। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীতে গত পাঁচ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল—
২০২০-২১: ২২,৬২১ মেট্রিক টন
২০২১-২২: ২২,১৯১ মেট্রিক টন
২০২২-২৩: ২২,৭৫১ মেট্রিক টন
২০২৩-২৪: ১৮,৫৬৪ মেট্রিক টন
২০২৪-২৫: ২৩,২৫৬ মেট্রিক টন
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, নদীতে আবারও আগের মতো ইলিশের সরবরাহ ফিরবে এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কিনতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে শুধু অভিযান নয়, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ যুবক আটক, ছিনিয়ে নিতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীতে ইলিশের সংকট, চড়া দামে বিক্রি

প্রকাশিত: 08:48:03 pm, Sunday, 6 September 2026

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। অথচ নোয়াখালীতে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সরবরাহ। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে হতাশ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইলিশঘাট হিসেবে পরিচিত চেয়ারম্যানঘাটে প্রতিদিন ভোরে নদী থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে অসংখ্য নৌকা। এরপর শুরু হয় মাছ নামানো, বাছাই, নিলাম ও বেচাকেনা।

তবে ইলিশের মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের সরবরাহ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি, নদীতে ইলিশ কমে যাওয়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেক সাধারণ ক্রেতাই ইলিশ কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার কেউ ইলিশের পরিবর্তে অন্য মাছ বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকাসহ ছোট মাছ নিধন, ছোট ইলিশ বড় হওয়ার আগেই ধরে ফেলা এবং মা ইলিশ শিকারের কারণে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কমছে। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীতে গত পাঁচ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল—
২০২০-২১: ২২,৬২১ মেট্রিক টন
২০২১-২২: ২২,১৯১ মেট্রিক টন
২০২২-২৩: ২২,৭৫১ মেট্রিক টন
২০২৩-২৪: ১৮,৫৬৪ মেট্রিক টন
২০২৪-২৫: ২৩,২৫৬ মেট্রিক টন
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, নদীতে আবারও আগের মতো ইলিশের সরবরাহ ফিরবে এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কিনতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে শুধু অভিযান নয়, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।