নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে মোহাম্মদ ফারুক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ ফারুক ওই এলাকার মৃত চৌধুরী মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে উত্তর সুন্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ প্রকাশ আকাশ (২৮) ও তার সহযোগীরা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের সামনে ফারুককে একা পেয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটিতে জড়ায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা ফারুককে উদ্ধার করে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আকাশকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে কবিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় আকাশকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আটক আরশাদ প্রকাশ আকাশ একই গ্রামের আমিন উল্যার ছেলে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
