নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও নরওয়ে প্রবাসী অনুজীব বিজ্ঞানী আল-আমিন খালিদ সম্রাটের মৃত্যুর পেছনে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধের জের রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের দাবি, বিরাহিমপুর গ্রামের সাদেক বি.এস.সি. পরিবারের ২১ শতক বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সম্রাটের ছোট বোনের স্বামী শাহজাহান রাসেল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্রাট যেদিন নিহত হন, সেদিন দুপুর ২টার দিকে শাহজাহান রাসেল সম্রাটের ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে মোট ২৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের তথ্য জানতে পারেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নয়ন শেখ নামে এক ব্যক্তি আল-আমিন খালিদ সম্রাটকে ঢাকার নবোদয় হাউজিং এলাকার একটি অফিসে ডেকে নেন। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় শ্যামলী স্কয়ার শপিংমলের পাশে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে আরিফ নামে এক উবার চালক তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দাবি, সম্রাটের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানগত তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
পরিবার আরও অভিযোগ করে, জমি দখলকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক বিরোধ ও আদালতে মামলা হয়েছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত মালিকানা দলিল বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম ছাইফুদ্দিন তরন বলেন, নিহতের মোবাইল ফোনের তথ্য ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহতের মা মাস্টার ফরিদা আক্তার খাতুন ঢাকার আদাবর থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি তাঁর ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং সম্রাটের সঙ্গে থাকা ৮ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে ভূমি বিরোধ, জাল দলিল, অর্থ উত্তোলন এবং হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।
