Dhaka , Sunday, 13 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার fa fa-square সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম fa fa-square জিপিএ-৫ পাওয়া ১২০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল কোম্পানীগঞ্জ ফ্রেন্ডস সোসাইটি fa fa-square নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৮ fa fa-square কবিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা fa fa-square সেনবাগে চোরাই পিকআপ ও ডিমের চালান জব্দ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীর চাটখিলে ৬৯০ ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন আটক fa fa-square প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নোয়াখালীতে তহশীল অফিসে  সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালীর সদর উপজেলার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের মৃধ্যার হাট তহশীল অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমা-খারিজ, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন ওই কর্মকর্তা।

সরকারি নির্ধারিত ফি থাকলেও কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জমা-খারিজ শেষে হোল্ডিং নম্বর খোলার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মিজান ও রফিক অভিযোগ করে বলেন, “জমা-খারিজ করার পর হোল্ডিং নম্বর খুলতে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে খাজনা দেওয়ার জন্য আবেদন করতেও আবার টাকা দাবি করা হলে আমরা বাধ্য হয়ে দাখিলা না কেটেই ফিরে আসি।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের পরও যথাযথ রশিদ প্রদান করা হয় না। রশিদ চাইলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সন্ধ্যার পর অফিসে আসেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চৌমুহনীতে পাঁচতলা ভবনসহ নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন মুজিবুল হক এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল হাতিয়া উপজেলার চর হরিণী-চানন্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।

সেখানে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দুই মাসেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালী জেলা শাখা প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মোঃ মুজিবুল হকের বক্তব্য জানতে মৃধ্যার হাট ভূমি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে, স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার

নোয়াখালীতে তহশীল অফিসে  সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: 08:44:33 pm, Wednesday, 6 May 2026

নোয়াখালীর সদর উপজেলার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের মৃধ্যার হাট তহশীল অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমা-খারিজ, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন ওই কর্মকর্তা।

সরকারি নির্ধারিত ফি থাকলেও কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জমা-খারিজ শেষে হোল্ডিং নম্বর খোলার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মিজান ও রফিক অভিযোগ করে বলেন, “জমা-খারিজ করার পর হোল্ডিং নম্বর খুলতে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে খাজনা দেওয়ার জন্য আবেদন করতেও আবার টাকা দাবি করা হলে আমরা বাধ্য হয়ে দাখিলা না কেটেই ফিরে আসি।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের পরও যথাযথ রশিদ প্রদান করা হয় না। রশিদ চাইলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সন্ধ্যার পর অফিসে আসেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চৌমুহনীতে পাঁচতলা ভবনসহ নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন মুজিবুল হক এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল হাতিয়া উপজেলার চর হরিণী-চানন্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।

সেখানে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দুই মাসেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালী জেলা শাখা প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মোঃ মুজিবুল হকের বক্তব্য জানতে মৃধ্যার হাট ভূমি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে, স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।