নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা আদায়ের নামে এক অটোরিকশাচালককে অপহরণ করে দুই দিন শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
পরে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার একটি বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী মো. রিপনকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেম একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রিপন ও কাশেম যৌথভাবে ছাগলের ব্যবসা করতেন। একপর্যায়ে রিপনের কাছে কাশেমের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা হয়। বর্তমানে রিপন নোয়াখালী সদর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় কাশেম রিপনকে নোয়াখালী সদর উপজেলা থেকে তুলে এনে সুবর্ণচরের ভূঁইয়ারহাট এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখেন।
সেখানে তার পায়ে শিকল বেঁধে দুই দিন ধরে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাকে অর্ধাহারে-অনাহারে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, রিপনকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় আরও দুই যুবকও অভিযুক্তদের হাতে আটক হন। পরে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় তাদেরও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, “ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাকে তুলে এনে শিকলে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
