Dhaka , Thursday, 29 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত

কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে বিদ্যুৎ আইনের তোয়াক্কা নেই, সাবস্টেশন ছাড়াই চলছে শতাধিক ভবন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বসুরহাট পৌরসভায় বহুতল ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি লোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব সাবস্টেশন স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও, বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুরহাট পৌরসভার প্রায় শতাধিক ৬ তলা ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ কিলোওয়াটেরও বেশি। সঠিকভাবে পরিমাপ করলে অনেক ভবনের লোড ১০০ কিলোওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কিন্তু এসব ভবনে প্রয়োজনীয় সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়নি, যা বিদ্যুৎ আইন ও ভবন নির্মাণ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ভবন মালিকরা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ম এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে যেমন আইন উপেক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ সমস্যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আইন কী বলছে-
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC 2020) এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০ কিলোওয়াট অতিক্রম করলে সেখানে ১১/০.৪ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন বাধ্যতামূলক। এছাড়া এ ধরনের উচ্চ ক্ষমতার সংযোগ নিতে হলে ভবনের ওয়্যারিং, সার্কিট ডায়াগ্রাম ও সেফটি প্ল্যান প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের (OCE) অনুমোদন নিতে হয়।

কেন সাবস্টেশন জরুরি-
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবস্টেশন না থাকলে উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত ১১ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ৪১৫ বা ২৩০ ভোল্টে নামিয়ে নিরাপদ করা হয়, যা সাবস্টেশন ছাড়া সম্ভব নয়।

এছাড়াও সাবস্টেশন থাকলে—
ভোল্টেজ ড্রপ কমে এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়
সিস্টেম লস কমে যায়
শর্ট সার্কিট বা অতিরিক্ত লোড থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত থাকে
লিফট, এসি ও ভারী যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ে
জনদুর্ভোগ বাড়ছে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই ভোল্টেজ ওঠানামা, লোডশেডিং এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি-
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ

কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে বিদ্যুৎ আইনের তোয়াক্কা নেই, সাবস্টেশন ছাড়াই চলছে শতাধিক ভবন।

প্রকাশিত: 06:14:27 pm, Saturday, 11 April 2026

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বসুরহাট পৌরসভায় বহুতল ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি লোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব সাবস্টেশন স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও, বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুরহাট পৌরসভার প্রায় শতাধিক ৬ তলা ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ কিলোওয়াটেরও বেশি। সঠিকভাবে পরিমাপ করলে অনেক ভবনের লোড ১০০ কিলোওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কিন্তু এসব ভবনে প্রয়োজনীয় সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়নি, যা বিদ্যুৎ আইন ও ভবন নির্মাণ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ভবন মালিকরা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ম এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে যেমন আইন উপেক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ সমস্যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আইন কী বলছে-
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC 2020) এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০ কিলোওয়াট অতিক্রম করলে সেখানে ১১/০.৪ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন বাধ্যতামূলক। এছাড়া এ ধরনের উচ্চ ক্ষমতার সংযোগ নিতে হলে ভবনের ওয়্যারিং, সার্কিট ডায়াগ্রাম ও সেফটি প্ল্যান প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের (OCE) অনুমোদন নিতে হয়।

কেন সাবস্টেশন জরুরি-
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবস্টেশন না থাকলে উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত ১১ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ৪১৫ বা ২৩০ ভোল্টে নামিয়ে নিরাপদ করা হয়, যা সাবস্টেশন ছাড়া সম্ভব নয়।

এছাড়াও সাবস্টেশন থাকলে—
ভোল্টেজ ড্রপ কমে এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়
সিস্টেম লস কমে যায়
শর্ট সার্কিট বা অতিরিক্ত লোড থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত থাকে
লিফট, এসি ও ভারী যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ে
জনদুর্ভোগ বাড়ছে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই ভোল্টেজ ওঠানামা, লোডশেডিং এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি-
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।