Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বসুরহাট–মাইজদি সড়কে বাস নেই কেন? ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী।

নোয়াখালীর বসুরহাট থেকে সোনাপুর হয়ে মাইজদি কোর্ট পর্যন্ত সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই রুটে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করেন।

মাইজদি যেহেতু জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র, তাই আদালত, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার জন্য এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটে এখনো নিয়মিত বাস চলাচল চালু হয়নি।

ফলে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, যা ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে বসুরহাট থেকে মাইজদি কোর্ট পর্যন্ত সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯০ টাকা।

এতে করে সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য এত ব্যয় বহন করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীরা। শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো হাফপাস সুবিধা না থাকায় তাদেরও পূর্ণ ভাড়া দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন যাতায়াতকারীদের ক্ষেত্রে মাস শেষে এই ব্যয় একটি বড় অঙ্কে দাঁড়ায়, যা অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

দূরত্ব অনুযায়ী হিসাব করলে বসুরহাট থেকে মাইজদি প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সেই হিসেবে বর্তমানে সিএনজি ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩.৭৫ টাকা। অথচ এই রুটে বাস সার্ভিস চালু থাকলে সরকারি নির্ধারিত হারে ভাড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে থাকার কথা। অর্থাৎ একজন যাত্রী প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বেশি পরিশোধ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ রুটে বাস চলাচল না থাকায় একটি একচেটিয়া নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা ভাড়াকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের ধারণা, সিএনজিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ, তবে বাস না থাকায় যাত্রীদের বিকল্পহীন অবস্থায় পড়তে হচ্ছে এটি স্পষ্ট।

নিরাপত্তার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। ছোট যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতীতে এই সড়কে সিএনজি কেন্দ্রিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা বড় গণপরিবহনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটি এখন প্রশস্ত ও চলাচল উপযোগী।

যাত্রীচাহিদাও যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও কেন বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে না—এ প্রশ্ন এখন সবার।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি উঠেছে, এই রুটে দ্রুত বাস বা মিনিবাস সার্ভিস চালু করা হোক।

পাশাপাশি যাত্রীভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের ভাষায়, উন্নয়ন শুধু সড়ক নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; সেই সড়কে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নিয়মিত গণপরিবহন নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

বসুরহাট–মাইজদি সড়কে বাস নেই কেন? ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী।

প্রকাশিত: 07:20:13 pm, Friday, 17 April 2026

নোয়াখালীর বসুরহাট থেকে সোনাপুর হয়ে মাইজদি কোর্ট পর্যন্ত সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই রুটে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করেন।

মাইজদি যেহেতু জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র, তাই আদালত, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার জন্য এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটে এখনো নিয়মিত বাস চলাচল চালু হয়নি।

ফলে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, যা ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে বসুরহাট থেকে মাইজদি কোর্ট পর্যন্ত সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯০ টাকা।

এতে করে সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য এত ব্যয় বহন করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীরা। শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো হাফপাস সুবিধা না থাকায় তাদেরও পূর্ণ ভাড়া দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন যাতায়াতকারীদের ক্ষেত্রে মাস শেষে এই ব্যয় একটি বড় অঙ্কে দাঁড়ায়, যা অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

দূরত্ব অনুযায়ী হিসাব করলে বসুরহাট থেকে মাইজদি প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সেই হিসেবে বর্তমানে সিএনজি ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩.৭৫ টাকা। অথচ এই রুটে বাস সার্ভিস চালু থাকলে সরকারি নির্ধারিত হারে ভাড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে থাকার কথা। অর্থাৎ একজন যাত্রী প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বেশি পরিশোধ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ রুটে বাস চলাচল না থাকায় একটি একচেটিয়া নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা ভাড়াকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের ধারণা, সিএনজিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ, তবে বাস না থাকায় যাত্রীদের বিকল্পহীন অবস্থায় পড়তে হচ্ছে এটি স্পষ্ট।

নিরাপত্তার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। ছোট যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতীতে এই সড়কে সিএনজি কেন্দ্রিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা বড় গণপরিবহনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটি এখন প্রশস্ত ও চলাচল উপযোগী।

যাত্রীচাহিদাও যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও কেন বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে না—এ প্রশ্ন এখন সবার।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি উঠেছে, এই রুটে দ্রুত বাস বা মিনিবাস সার্ভিস চালু করা হোক।

পাশাপাশি যাত্রীভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের ভাষায়, উন্নয়ন শুধু সড়ক নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; সেই সড়কে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নিয়মিত গণপরিবহন নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন।