Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীতে ছাড়পত্রহীন মুরগির খামার: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা—বিশেষ করে বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ ও চাটখিলের গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে উঠছে মুরগির খামার। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ খামারই স্থাপনের আগে কোনো ধরনের অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়নি। বসতবাড়ির পাশেই কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব খামার গড়ে ওঠায় তীব্র দুর্গন্ধ, মলমূত্র ও বর্জ্যের কারণে বায়ু ও পানি দূষণ বাড়ছে।

অনেক ক্ষেত্রে খামারের বর্জ্য আশপাশের খাল, পুকুর ও কৃষিজমিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ ধরনের দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। একই সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পোল্ট্রি খামার স্থাপনের আগে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের খামার স্থাপন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনও প্রয়োজন।

কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের অভাবে খামার মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে নিয়ম লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন।

নোয়াখালীর সচেতন মহল বলছেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

অবৈধ খামারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পিতভাবে খামার স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং কঠোর নজরদারি জোরদার করাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের প্রধান উপায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

নোয়াখালীতে ছাড়পত্রহীন মুরগির খামার: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশিত: 06:02:29 pm, Saturday, 25 April 2026

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা—বিশেষ করে বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ ও চাটখিলের গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে উঠছে মুরগির খামার। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ খামারই স্থাপনের আগে কোনো ধরনের অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়নি। বসতবাড়ির পাশেই কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব খামার গড়ে ওঠায় তীব্র দুর্গন্ধ, মলমূত্র ও বর্জ্যের কারণে বায়ু ও পানি দূষণ বাড়ছে।

অনেক ক্ষেত্রে খামারের বর্জ্য আশপাশের খাল, পুকুর ও কৃষিজমিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ ধরনের দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। একই সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পোল্ট্রি খামার স্থাপনের আগে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের খামার স্থাপন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনও প্রয়োজন।

কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের অভাবে খামার মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে নিয়ম লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন।

নোয়াখালীর সচেতন মহল বলছেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

অবৈধ খামারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পিতভাবে খামার স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং কঠোর নজরদারি জোরদার করাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের প্রধান উপায়।