জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাত শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে নবীনবরণের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা শীর্ষক কার্যক্রমের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং নোয়াখালী জেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সীমান্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসীর চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের সময় নয়, বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসব অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর দায়িত্ব প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনের কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নোবিপ্রবির চার শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা শীর্ষক কার্যক্রমে বিজয়ী ১০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।


মিশতাক হাসান মাফি 





















