Dhaka , Sunday, 13 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার fa fa-square সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম fa fa-square জিপিএ-৫ পাওয়া ১২০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল কোম্পানীগঞ্জ ফ্রেন্ডস সোসাইটি fa fa-square নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৮ fa fa-square কবিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা fa fa-square সেনবাগে চোরাই পিকআপ ও ডিমের চালান জব্দ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীর চাটখিলে ৬৯০ ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন আটক fa fa-square প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চাটখিলে মাদক সম্রাজ্ঞীর রাজকীয় আস্তানা, ঝুপড়ি ঘরেই এসি ও নজরদারি ব্যবস্থা

নোয়াখালীর চাটখিলে বেদে পল্লীর একটি ঝুপড়ি ঘরে এয়ারকন্ডিশন (এসি) ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে সাধারণ কুঁড়েঘর মনে হলেও ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আস্তানা, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা ওই আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো আস্তানাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনের অংশ হিসেবে ঘরে বসানো হয়েছে এয়ারকন্ডিশনও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন ববিতা।

অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে অন্য রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তারের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় মাদক সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বেদে পল্লীকে মাদক বিক্রির নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এর ফলে এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তারা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, “একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ সবাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে। ববিতার ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং তাকে যারা পেছন থেকে সহযোগিতা করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।”

পুলিশ আরও জানায়, ববিতাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় লোকজন হামলার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তাকেও আটক করা হয়েছিল।

তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়ে আমাদের ধারণা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার

চাটখিলে মাদক সম্রাজ্ঞীর রাজকীয় আস্তানা, ঝুপড়ি ঘরেই এসি ও নজরদারি ব্যবস্থা

প্রকাশিত: 09:52:24 pm, Sunday, 14 June 2026

নোয়াখালীর চাটখিলে বেদে পল্লীর একটি ঝুপড়ি ঘরে এয়ারকন্ডিশন (এসি) ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে সাধারণ কুঁড়েঘর মনে হলেও ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আস্তানা, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা ওই আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো আস্তানাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনের অংশ হিসেবে ঘরে বসানো হয়েছে এয়ারকন্ডিশনও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন ববিতা।

অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে অন্য রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তারের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় মাদক সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বেদে পল্লীকে মাদক বিক্রির নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এর ফলে এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তারা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, “একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ সবাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে। ববিতার ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং তাকে যারা পেছন থেকে সহযোগিতা করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।”

পুলিশ আরও জানায়, ববিতাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় লোকজন হামলার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তাকেও আটক করা হয়েছিল।

তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়ে আমাদের ধারণা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।