Dhaka , Thursday, 3 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানিগঞ্জে চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি, সচিবের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ মেরিন অফিসার এর, fa fa-square কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে এফএএফ মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অভিভাবক সমাবেশ fa fa-square নোবিপ্রবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর নবীন বরণ, প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন উপদেষ্টা fa fa-square ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করতে কোম্পানীগঞ্জ,বসুরহাটে জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ fa fa-square নোয়াখালীতে চুরি করতে এসে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্তকে গণপিটুনি fa fa-square এমপি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের উদ্বোধনে কোম্পানীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ fa fa-square প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ উপলক্ষে কবিরহাট সরকারি কলেজে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ। fa fa-square নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সাময়িক বরখাস্ত ২ শিক্ষক fa fa-square ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘অস্ত্রধারী ক্যাডার’ বলার আগে নথি যাচাই জরুরি: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব। fa fa-square সেনবাগ ছিলোনিয়া বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে ৬ দোকান

নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সাময়িক বরখাস্ত ২ শিক্ষক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার।

তদন্তের পরও ফের আলোচনায়
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্তের পর তাদের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্য দুটি বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়।

এবিএম সাইফুল ইসলামকে বালুচরা সমাজকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাগজপত্রে তাদের মূল কর্মস্থল হিসেবে ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে।

সম্প্রতি আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দুই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে।

ভিডিও ধারণের সময় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই থাকার অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে ওই দুই শিক্ষক অফিসকক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং সে সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল এবং কার মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ভিডিওটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

বিভাগীয় মামলা চলমান
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানিগঞ্জে চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি, সচিবের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ মেরিন অফিসার এর,

নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সাময়িক বরখাস্ত ২ শিক্ষক

প্রকাশিত: 10:42:18 am, Wednesday, 2 September 2026

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার।

তদন্তের পরও ফের আলোচনায়
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্তের পর তাদের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্য দুটি বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়।

এবিএম সাইফুল ইসলামকে বালুচরা সমাজকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাগজপত্রে তাদের মূল কর্মস্থল হিসেবে ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে।

সম্প্রতি আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দুই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে।

ভিডিও ধারণের সময় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই থাকার অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে ওই দুই শিক্ষক অফিসকক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং সে সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল এবং কার মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ভিডিওটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

বিভাগীয় মামলা চলমান
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।