Dhaka , Sunday, 13 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার fa fa-square সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম fa fa-square জিপিএ-৫ পাওয়া ১২০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল কোম্পানীগঞ্জ ফ্রেন্ডস সোসাইটি fa fa-square নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৮ fa fa-square কবিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা fa fa-square সেনবাগে চোরাই পিকআপ ও ডিমের চালান জব্দ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীর চাটখিলে ৬৯০ ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন আটক fa fa-square প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের এক মাস পরও বদলায়নি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিত্র-

টাকা ছাড়া সেবা মেলে না’ অভিযোগ রোগীদের,

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শনের এক মাস পার হলেও নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, শয্যা সংকট, চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলেছেন একাধিক রোগী।

ছবিতে-অপরিস্কার হাসপাতাল

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল ও ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, প্রায় ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, হাতিয়া ও ভাসানচর থেকে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন।

গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে দাবি রোগীদের। বর্তমানে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন।

ফলে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেকেই মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও একটি বেডে দুইজন, আবার কোথাও শিশু ও বৃদ্ধ একই সংকীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সুবর্ণচর উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম বলেন, চিকিৎসকের কাছে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সরকারি খাবার পেতেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “মন্ত্রী আসার পর ভেবেছিলাম কিছু পরিবর্তন হবে। কিন্তু এখনো আগের মতোই ভিড়, কষ্ট আর দুর্ভোগ। টাকা থাকলে সরকারি হাসপাতালে আসতাম না, প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতাম। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই।”

চাটখিল উপজেলা থেকে আসা সোহাগ নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে টয়লেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের বসার পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বেড পেতে ৩০০ টাকা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটি জেলা হাসপাতাল যখন ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ রোগীর চাপ বহন করে, তখন পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের এক মাস পরও বদলায়নি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিত্র-

প্রকাশিত: 01:54:02 pm, Monday, 27 July 2026

টাকা ছাড়া সেবা মেলে না’ অভিযোগ রোগীদের,

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শনের এক মাস পার হলেও নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, শয্যা সংকট, চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলেছেন একাধিক রোগী।

ছবিতে-অপরিস্কার হাসপাতাল

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল ও ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, প্রায় ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, হাতিয়া ও ভাসানচর থেকে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন।

গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে দাবি রোগীদের। বর্তমানে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন।

ফলে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেকেই মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও একটি বেডে দুইজন, আবার কোথাও শিশু ও বৃদ্ধ একই সংকীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সুবর্ণচর উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম বলেন, চিকিৎসকের কাছে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সরকারি খাবার পেতেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “মন্ত্রী আসার পর ভেবেছিলাম কিছু পরিবর্তন হবে। কিন্তু এখনো আগের মতোই ভিড়, কষ্ট আর দুর্ভোগ। টাকা থাকলে সরকারি হাসপাতালে আসতাম না, প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতাম। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই।”

চাটখিল উপজেলা থেকে আসা সোহাগ নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে টয়লেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের বসার পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বেড পেতে ৩০০ টাকা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটি জেলা হাসপাতাল যখন ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ রোগীর চাপ বহন করে, তখন পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।