নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার করটখিল গ্রামের বর্ধন বাড়ির প্রবাসী সোহেল রানা (৩৬)-এর বিরুদ্ধে স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০)-কে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চাটখিল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে সোহেল রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক এবং তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রবাসে অবস্থানকালে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে কুমিল্লার শাহনাজ বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সোহেল রানা। পরে গত ৫ মে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।
গত ১৬ মে শাহনাজকে নিয়ে চাটখিলের করটখিলে নিজ বাড়িতে আসেন রানা। সেখানে এসে শাহনাজ জানতে পারেন, রানার আগে থেকেই এক স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও শাহনাজ সংসার করতে রাজি হলেও প্রথম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শাহনাজ প্রথমে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে কুমিল্লার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর রানা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যান। পরে গত ৬ জুলাই অস্থায়ী জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগে বলা হয়, জামিনে মুক্তির পর ৭ জুলাই রানা ও তার প্রথম স্ত্রী কুমিল্লা থেকে শাহনাজকে আবার চাটখিলের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর তাকে একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়, নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শাহনাজ মোবাইল ফোনে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে ২১ জুলাই চাটখিল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে সোহেল রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
