দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আবদুল মজিদ (৪৮) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কাফিলাতলী এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে। তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবদুল মজিদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও সরকারি কর্মচারীদের পেনশন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসটিডি হিসাব নম্বর-৪ থেকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬ থেকে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়।
নোয়াখালী দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, মামলার তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তার মোট ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।
