নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বসুরহাট একাডেমি অভিভাবক সমাবেশ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন,বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বাবু অরবিন্দ ভৌমিক।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,তাসলিমা আক্তার নুপুর ও বাবু জগন্নাথ দেবনাথ বিজয়।
এসময় বসুরহাট একাডেমির ফাউন্ডিং সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাপ্রাশিরহাট ইসমাইল ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বাসার, আফতাব আহম্মেদ বাচ্চু, এবং আমির হোসেন (বিএসসি)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাজেদা খানম।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম খাজা আবুল খায়েরের পুত্র ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়াত বিনতে কাশেম, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল হাকিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিদার হোসেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম।
অনুষ্ঠানে জেএসসি বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থী, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে মেধার স্বাক্ষর রাখা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গ-সাথী ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদান নয়; শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখানো এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
পুরস্কার গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত অভিভাবকরাও এমন আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
