নোয়াখালী জেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। দিন-রাত নির্বিশেষে লোডশেডিং এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে জেলার বাসিন্দাদের।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোথাও ১০ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় বিদ্যুতের লুকোচুরি, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে নোয়াখালীর জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৮ লাখের বেশি। এছাড়া জেলা শহরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাহক প্রায় ৮০ হাজার।
জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
জেলা শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে। দোকান চালাতে পারছেন না, খাবার সংরক্ষণও সম্ভব হচ্ছে না—ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি বলেন, দিনে মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, বাকি সময় কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়েও ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, যা একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আবাসিক হলগুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিনের বেলায় লোডশেডিং কম রাখা হচ্ছে এবং এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

