Dhaka , Sunday, 13 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম fa fa-square জিপিএ-৫ পাওয়া ১২০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল কোম্পানীগঞ্জ ফ্রেন্ডস সোসাইটি fa fa-square নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৮ fa fa-square কবিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা fa fa-square সেনবাগে চোরাই পিকআপ ও ডিমের চালান জব্দ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীর চাটখিলে ৬৯০ ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন আটক fa fa-square প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে চালককে গলায় ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ২, fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে হাসপাতালের সামনে নবজাতক রেখে পালানোর চেষ্টা, তরুণী আটক

থানা থেকে মামলা বিবরণি নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করেন ওসির আত্মীয় কামাল উদ্দিন!

থানা থেকে মামলা বিবরণি নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করেন ওসির আত্মীয় কামাল উদ্দিন!

নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করার অভিযোগ উঠেছে থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদার আত্মীয় (তালোই) মো. কামাল উদ্দিনের (৭২) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— তিনি থানায় দায়ের হওয়া মামলার কপি সংগ্রহ করে বাদী-বিবাদীদের জোরপূর্বক সালিশে বসান এবং টাকা ও স্বাক্ষরযুক্ত খালি স্ট্যাম্প জমা নেন। কেউ তার প্রস্তাবে রাজি না হলে মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকিও দেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতিয়া ডাকবাংলো সংলগ্ন মেজর মো. ফয়সাল বিন মির্জার বাসভবন ‘ক্যাসকেড ব্লু’-তে বসবাস করেন কামাল উদ্দিন। এখানেই বেশিরভাগ সালিশ পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, মেজর ও ওসির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তিনি দাগি আসামিদের নিরাপদ আশ্রয়ও দিয়ে থাকেন।

ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম (৪৮) অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ আগস্ট আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে (নম্বর-১৪), পরে কামাল উদ্দিন আমাদের ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। অন্যথায় মিথ্যা মামলার ভয় দেখান।”

বিজ্ঞাপন

এমন একাধিক কলরেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে টাকা নিয়ে সালিশ ও মিথ্যা মামলার হুমকির প্রমাণ মেলে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে স্বীকার করেন যে তিনি সালিশের সময় স্বাক্ষরযুক্ত খালি স্ট্যাম্প ও টাকা জমা নেন। তবে দাবি করেন, “বাদী-বিবাদীরা নিজেরাই সমাধানের স্বার্থে আমার কাছে আসে।”

অন্যদিকে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা বলেন, “কামাল উদ্দিন আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। তাকে থানায় না আসতে নিষেধ করেছি। কেউ যেন তার তদবির না শোনে সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।”

নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সাহাদত হোসেন বলেন, “খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করতে পারেন।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

থানা থেকে মামলা বিবরণি নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করেন ওসির আত্মীয় কামাল উদ্দিন!

প্রকাশিত: 04:24:24 am, Monday, 25 August 2025

থানা থেকে মামলা বিবরণি নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করেন ওসির আত্মীয় কামাল উদ্দিন!

নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে টাকার বিনিময়ে সালিশ করার অভিযোগ উঠেছে থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদার আত্মীয় (তালোই) মো. কামাল উদ্দিনের (৭২) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— তিনি থানায় দায়ের হওয়া মামলার কপি সংগ্রহ করে বাদী-বিবাদীদের জোরপূর্বক সালিশে বসান এবং টাকা ও স্বাক্ষরযুক্ত খালি স্ট্যাম্প জমা নেন। কেউ তার প্রস্তাবে রাজি না হলে মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকিও দেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতিয়া ডাকবাংলো সংলগ্ন মেজর মো. ফয়সাল বিন মির্জার বাসভবন ‘ক্যাসকেড ব্লু’-তে বসবাস করেন কামাল উদ্দিন। এখানেই বেশিরভাগ সালিশ পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, মেজর ও ওসির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তিনি দাগি আসামিদের নিরাপদ আশ্রয়ও দিয়ে থাকেন।

ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম (৪৮) অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ আগস্ট আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে (নম্বর-১৪), পরে কামাল উদ্দিন আমাদের ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। অন্যথায় মিথ্যা মামলার ভয় দেখান।”

বিজ্ঞাপন

এমন একাধিক কলরেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে টাকা নিয়ে সালিশ ও মিথ্যা মামলার হুমকির প্রমাণ মেলে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে স্বীকার করেন যে তিনি সালিশের সময় স্বাক্ষরযুক্ত খালি স্ট্যাম্প ও টাকা জমা নেন। তবে দাবি করেন, “বাদী-বিবাদীরা নিজেরাই সমাধানের স্বার্থে আমার কাছে আসে।”

অন্যদিকে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা বলেন, “কামাল উদ্দিন আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। তাকে থানায় না আসতে নিষেধ করেছি। কেউ যেন তার তদবির না শোনে সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।”

নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সাহাদত হোসেন বলেন, “খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করতে পারেন।”