নোয়াখালী জেলাজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সংকটকে পুঁজি করে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শুরু হয়েছে ভাড়া নৈরাজ্য। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ছোট যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ব্যস্ততম সোনাপুর-চৌমুহনী-মাইজদী সড়ক, ইসলামিয়া সড়ক, উদারহাট সড়ক, দত্তেরহাট সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পথে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। আর এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো কোনো চালক দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা নয়, ইলেকট্রিক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরাও বিভিন্ন অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
ইসলামিয়া সড়কে ইসমাঈল হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, “প্রতিদিন ২৫ টাকা দিয়ে যাতায়াত করি। মাঝে মাঝে ভাঙতি না থাকলে ৩০ টাকা দিই। কিন্তু এখন গ্যাস সংকটের কথা বলে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”
দত্তেরহাট সড়কের আবদুল জলিল বলেন, “এই সড়কে নিয়মিত ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। এখন ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিছু বলতে গেলে চালকরা উল্টো হুমকি-ধমকি দেন এবং গ্যাস সংকটের কথা বলে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।”
তাহসিন নামে এক যাত্রী বলেন, “আমি জেলা সুপার মার্কেটের একটি দোকানে কাজ করি। কাজ শেষে প্রতিদিন সোনাপুর যেতে হয়। আগে ২০ টাকা ভাড়া দিলেও এখন গ্যাস সংকটের কথা বলে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করা হচ্ছে।”
তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছি না।
কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকলে পরিবার চালাব কীভাবে? অল্প যেটুকু গ্যাস পাচ্ছি, তা দিয়ে খরচ পোষাচ্ছে না। তাই কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।”
আরেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, “আজকের দিনের জন্য বাড়তি নিচ্ছি। অন্যদিনের জন্য বাড়তি নিচ্ছি না।”
সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু গ্যাস সংকট নয়, সড়কের বেহাল দশা ও বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়েও কোনো কোনো রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়কে নির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান ভাড়ার তালিকা না থাকায় চালকদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
তানিম মজুমদার নামে এক যাত্রী বলেন, “নোয়াখালীর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে, বিশেষ করে চৌমুহনী থেকে সোনাইমুড়ী সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চরম নৈরাজ্য চলছে। কোনো নির্ধারিত নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা এবং ৩০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি রুটেই যেন বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু বিষয়টি তদারকি করার কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।”
যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে চালকদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি হয়ে থাকলেও তার দায় কোনোভাবেই যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
যাত্রী সাধারণের দাবি, অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দ্রুত গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব রাব্বানী বলেন, “ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা একটি অভিযান পরিচালনা করেছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আরও কয়েকটি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

