নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বহুল আলোচিত সাইদুল ইসলাম শাহীন হত্যা মামলায় মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ছয় আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ আলমের ছেলে। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীর একই ওয়ার্ডের নূর নবীর ছেলে।
আদালতের রায়ে সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ-
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সলিম উল্লাহর বসতবাড়ির সামনে সীমানার কড়ইগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরে ওই বিরোধের বিষয়ে সালিশি বৈঠক বসে। এ সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামলার বাদীর ছেলে সাইদুল ইসলাম শাহীনকে গলায় লোহার রড ঢুকিয়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপসকর হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত চার আসামি ও তাদের জামিনদারদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


হিমেল আহাম্মেদ 


















