ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ আগামী শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওইদিন রাতেই নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে।
নিহতরা হলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার মরদেহের সঙ্গে দেশে এসে জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের কাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়া এলাকায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হবে।
স্বজনরা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। পরে বিকেলে মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে নেওয়া হবে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ির পাশে শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
এর আগে গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন।
এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনও আইনের আওতায় আনা যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাবুলের সঙ্গে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক বছর আগে পরিবারের কাছে হুমকির চিঠি
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়।
চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করলে পরিবারের ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে বুঝাতে পারছি না। আমি বিচার চাই। কবে পাব বিচার, তার হিসাব জানি না।”

