Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ

বিলাসবহুল জীবন মানেই কি সুখী পরিবার? যেখানে ভালোবাসা নেই, সেখানে সম্পদও অসহায়!

একজন সাধারণ পরিবারের মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘরে এসে জীবনের বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারেন। অনেকের ভাগ্যে জোটে আর্থিক স্বচ্ছলতা, বিলাসবহুল জীবন, উন্নত বাসস্থান, দামি গাড়ি, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী স্বামী এবং সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এমন জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা থাকার কথা নয়।

কিন্তু বাস্তব জীবন প্রায়ই ভিন্ন গল্প বলে।

অর্থ, সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষের জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানসিক শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একজন মানুষ সারাদিন কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত এবং নানা চাপ সামলে যখন ঘরে ফেরেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটি শান্ত পরিবেশ, আন্তরিক ব্যবহার এবং এমন একজন সঙ্গী, যার কাছে তিনি স্বস্তি খুঁজে পাবেন।

একইভাবে একজন স্ত্রীও স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা, সম্মান, সময় এবং গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। এই পারস্পরিক চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে, সম্পর্কের ভেতর দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।

ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি, অকারণ সন্দেহ, প্রতিনিয়ত অভিযোগ কিংবা একে অপরকে না বোঝার প্রবণতা ধীরে ধীরে একটি সুন্দর সংসারের ভিত নড়বড়ে করে দেয়। তখন কোটি টাকার বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্সও সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে না।

প্রখ্যাত লেখক লিও টলস্টয় লিখেছিলেন, “সব সুখী পরিবার একরকম, কিন্তু প্রতিটি অসুখী পরিবার তার নিজস্ব কারণে অসুখী।” এই কথাটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। একটি সংসারের সুখ নির্ভর করে শুধু অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ধৈর্য এবং বোঝাপড়ার ওপর।

ইংরেজ দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, “স্ত্রী ও সন্তান মানুষের জন্য দায়িত্বও, আবার আশীর্বাদও।” অর্থাৎ পরিবার কেবল ভোগের জায়গা নয়, এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতারও নাম।

বাংলা একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে, “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”। তবে আধুনিক বাস্তবতায় এ কথার সঙ্গে আরেকটি সত্যও যোগ করা যায়, সংসার সুখের হয় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের গুণে। একজনের ভালোবাসা, ধৈর্য বা ত্যাগ দিয়ে দীর্ঘদিন একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। উভয়েরই সমানভাবে চেষ্টা করতে হয়।

মনে রাখতে হবে, সব নারী যেমন এক রকম নন, তেমনি সব পুরুষও এক রকম নন। কেউ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন, কেউ সময় ও মানসিক উপস্থিতিকে। তাই পুরো একটি লিঙ্গকে একভাবে বিচার না করে, প্রতিটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব বাস্তবতায় দেখা উচিত।

সম্পর্কে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু সম্মান, সৌজন্য এবং খোলামেলা যোগাযোগ থাকলে বেশিরভাগ সমস্যারই সমাধান সম্ভব। কারণ একটি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু অভাব নয়, বরং অবহেলা।

শেষ পর্যন্ত সত্যটি খুবই সহজ। অর্থ দিয়ে বাড়ি কেনা যায়, কিন্তু ঘর নয়। দামি আসবাব কেনা যায়, কিন্তু শান্তি নয়। বিলাসিতা কেনা যায়, কিন্তু ভালোবাসা নয়।

একটি সুখী সংসারে চেয়ে বড় সম্পদ ব্যাংক ব্যালেন্স নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান,

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

বিলাসবহুল জীবন মানেই কি সুখী পরিবার? যেখানে ভালোবাসা নেই, সেখানে সম্পদও অসহায়!

প্রকাশিত: 03:12:09 pm, Tuesday, 14 July 2026

একজন সাধারণ পরিবারের মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘরে এসে জীবনের বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারেন। অনেকের ভাগ্যে জোটে আর্থিক স্বচ্ছলতা, বিলাসবহুল জীবন, উন্নত বাসস্থান, দামি গাড়ি, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী স্বামী এবং সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এমন জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা থাকার কথা নয়।

কিন্তু বাস্তব জীবন প্রায়ই ভিন্ন গল্প বলে।

অর্থ, সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষের জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানসিক শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একজন মানুষ সারাদিন কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত এবং নানা চাপ সামলে যখন ঘরে ফেরেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটি শান্ত পরিবেশ, আন্তরিক ব্যবহার এবং এমন একজন সঙ্গী, যার কাছে তিনি স্বস্তি খুঁজে পাবেন।

একইভাবে একজন স্ত্রীও স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা, সম্মান, সময় এবং গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। এই পারস্পরিক চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে, সম্পর্কের ভেতর দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।

ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি, অকারণ সন্দেহ, প্রতিনিয়ত অভিযোগ কিংবা একে অপরকে না বোঝার প্রবণতা ধীরে ধীরে একটি সুন্দর সংসারের ভিত নড়বড়ে করে দেয়। তখন কোটি টাকার বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্সও সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে না।

প্রখ্যাত লেখক লিও টলস্টয় লিখেছিলেন, “সব সুখী পরিবার একরকম, কিন্তু প্রতিটি অসুখী পরিবার তার নিজস্ব কারণে অসুখী।” এই কথাটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। একটি সংসারের সুখ নির্ভর করে শুধু অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ধৈর্য এবং বোঝাপড়ার ওপর।

ইংরেজ দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, “স্ত্রী ও সন্তান মানুষের জন্য দায়িত্বও, আবার আশীর্বাদও।” অর্থাৎ পরিবার কেবল ভোগের জায়গা নয়, এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতারও নাম।

বাংলা একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে, “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”। তবে আধুনিক বাস্তবতায় এ কথার সঙ্গে আরেকটি সত্যও যোগ করা যায়, সংসার সুখের হয় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের গুণে। একজনের ভালোবাসা, ধৈর্য বা ত্যাগ দিয়ে দীর্ঘদিন একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। উভয়েরই সমানভাবে চেষ্টা করতে হয়।

মনে রাখতে হবে, সব নারী যেমন এক রকম নন, তেমনি সব পুরুষও এক রকম নন। কেউ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন, কেউ সময় ও মানসিক উপস্থিতিকে। তাই পুরো একটি লিঙ্গকে একভাবে বিচার না করে, প্রতিটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব বাস্তবতায় দেখা উচিত।

সম্পর্কে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু সম্মান, সৌজন্য এবং খোলামেলা যোগাযোগ থাকলে বেশিরভাগ সমস্যারই সমাধান সম্ভব। কারণ একটি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু অভাব নয়, বরং অবহেলা।

শেষ পর্যন্ত সত্যটি খুবই সহজ। অর্থ দিয়ে বাড়ি কেনা যায়, কিন্তু ঘর নয়। দামি আসবাব কেনা যায়, কিন্তু শান্তি নয়। বিলাসিতা কেনা যায়, কিন্তু ভালোবাসা নয়।

একটি সুখী সংসারে চেয়ে বড় সম্পদ ব্যাংক ব্যালেন্স নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান,