নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন কৈশোর।
তিনি জানান, এদিন মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই বিচারক রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পর দুপুরে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফিরে একাই ছিল ওই ছাত্রী।
সন্ধ্যায় তার মা বাসায় এসে মূল দরজায় তালা দেখতে পান। পরে তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ঘরের আলমারিতে জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য কক্ষে বিছানায় মেয়ের অর্ধনগ্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও নিহত ছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে রনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জবানবন্দিতে জানান, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ঘটনাটি গোপন করতে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলায় বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
নিহত ছাত্রীর মা বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।”

