বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন নাথ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সোহেল। তাঁদের সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ছাতারপাইয়া পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।
এরই মধ্যে পশ্চিমপাড়ার এক বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি পূর্বপাড়ার এক ব্যক্তির বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করেন। পরে ওই বাড়ি থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গৃহকর্তা মিস্ত্রিকে সন্দেহ করলে বাজারে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরে মিস্ত্রি বিষয়টি পশ্চিমপাড়ার লোকজনকে জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন বাজার এলাকায় জড়ো হলে একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয় এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো ছাতারপাইয়া বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কজুড়ে ইটপাটকেল ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বাজারের অন্তত ৫০টির বেশি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সেনবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যোগ দিলে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ছাতারপাইয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদ জানান, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তাঁর নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বাজারের ৫০টির বেশি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গৃহকর্তা ও এক মিস্ত্রির মধ্যে বিরোধের জেরে পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, সংঘর্ষের সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

