নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে চালককে গলায় ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসুরহাট-হাজারীহাট সড়কের বিদ্যুৎ অফিসের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক মো. মহসিন (৪৫) বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং এলাকার শাহ আলমের ছেলে নুর উদ্দিন (২৮) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি এলাকার মামুনের ছেলে শাহীন (১৯)। তারা ফেনীর একটি বোতল কারখানায় কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বসুরহাট বাজার থেকে দুই যুবক যাত্রীবেশে মহসিনের অটোরিকশায় ওঠেন। তারা কদমতলা এলাকায় যাওয়ার কথা জানান। বিদ্যুৎ অফিসের কাছাকাছি পৌঁছালে তাদের একজন কিছু পড়ে গেছে বলে দাবি করে অটোরিকশা থামাতে বলেন।
অটোরিকশা থামার পর দুজন মিলে চালক মহসিনকে গাড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা মহসিনের গলায় ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় মহসিন চিৎকার দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গলায় ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মহসিন অটোরিকশার চার্জিং স্টেশনে পৌঁছালে মালিক সাইফুলসহ অন্যরা তাকে দ্রুত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে, মহসিনকে ছুরিকাঘাতের সময় নুর উদ্দিনের নিজের আঙুলও কেটে যায় বলে জানা গেছে। পরে তারা পালিয়ে সিরাজপুরের দোকানঘর এলাকায় গেলে ছাত্রদল নেতা রবিন মাহমুদসহ কয়েকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে গিয়ে তারা গলায় ছুরিকাঘাতে আহত মহসিনকে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে নুর উদ্দিন ও শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, “এ ঘটনায় দুজনকে রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


হিমেল আহাম্মেদ 

















