মেঘনার উত্তাল ঢেউ যেখানে আছড়ে পড়ে, সেখানেই এক বুক কষ্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দ্বিপ উপজেলা হাতিয়া।
প্রতিবার বর্ষা আসে, আর সঙ্গে নিয়ে আসে এক অদৃশ্য আতঙ্ক। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন ভাঙনের শব্দ শোনা যায়, তখন শুধু মাটি নয়—ভেঙে পড়ে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যৎ।
ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয় সেই নির্মম বাস্তবতা—কারো ঘর নেই, কারো জমি নেই, কারো পুরো পৃথিবীটাই যেন হারিয়ে গেছে।
নদী কেবল জমি গ্রাস করে না, কেড়ে নেয় মানুষের শেকড়, স্মৃতি আর বেঁচে থাকার শেষ ভরসাটুকুও। একটি ভাঙনে হারিয়ে যায় বহু বছরের গড়ে তোলা সংসার। স্কুল হারায় তার শিক্ষার্থী, কৃষক হারায় তার ফসল, জেলে হারায় তার নৌকা বাঁধার শেষ আশ্রয়।
ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ হয়ে পড়ে দিশেহারা। নিজের জন্মভূমিতেই যেন পরবাসীর মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হয় তারা। শিশুদের চোখে ভয়, বয়স্কদের চোখে অনিশ্চয়তা—এ যেন প্রতিদিনের সংগ্রামের আর্তনাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি জিইয়ে থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা টেকে না প্রকৃতির তীব্রতার সামনে। ফলে প্রতিটি বর্ষা নতুন করে নিয়ে আসে ধ্বংসের বার্তা।
তাদের একটাই কথা—
“আমরা ভিক্ষা চাই না, সহানুভূতির ভাষণও চাই না। আমরা চাই বাঁচার অধিকার।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতিয়াকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন টেকসই ও পরিকল্পিত উদ্যোগ—মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, কার্যকর নদী শাসন এবং উপকূলজুড়ে পরিকল্পিত বনায়ন।
আজ যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে একসময় মানচিত্রেই খুঁজে পাওয়া যাবে না এই জনপদকে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।
তাই এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার—
হাতিয়ায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
নদী ভাঙন থামাও, জীবন বাঁচাও।

