নোয়াখালীর রেল যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আওতায় লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
একই সঙ্গে ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালু এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লোকোমোটিভ ও কোচের সংকটের কারণে নতুন ট্রেন চালু হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম এবং নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, নোয়াখালী ও চৌমুহনী অঞ্চলের বিভিন্ন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ সমস্যা নিরসনে চৌমুহনী রেলস্টেশনের বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের নতুন অংশ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
সম্প্রসারণকাজ শেষ হলে একসঙ্গে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠানামা করতে পারবেন।
এ ছাড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মেঝে পাকা করা, অসম্পূর্ণ অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন এবং স্টেশন ভবন ও যাত্রীছাউনির সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র গত ৫ নভেম্বর আহ্বান করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিলের স্লিপার পরিবর্তন, নতুন পাথর (ব্যালাস্ট) স্থাপন, রেললাইনের ফিটিংস আধুনিকায়ন, রেলপথ সুরক্ষায় প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হলে নোয়াখালী অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব হবে।
ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকট থাকায় পরিকল্পনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ পাওয়া গেলে বর্তমানে চলাচলরত উপকূল এক্সপ্রেসের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ঢাকার সঙ্গে নোয়াখালীর সরাসরি রেল যোগাযোগ আরও সহজ, আধুনিক ও আরামদায়ক করার দাবি দীর্ঘদিনের। নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর ট্রেনটির চালু হওয়া নির্ভর করছে।