নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভাড়া নেওয়া একটি বালু আনলোড ড্রেজারের কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং ড্রেজারটি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনায়েতুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ড্রেজারের মালিক হাজেরা বেগম নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।

পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে হাজেরা বেগম উল্লেখ করেন, তিনি বালু আনলোডের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজারের মালিক। ড্রেজারটি ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক এলাকার বাসিন্দা এনায়েতুল ইসলাম (৩৫) মাসিক ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ভাড়ায় সেটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়োজনীয় মালামালসহ ড্রেজারটি তাঁর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ভাড়া নেওয়ার পর এনায়েতুল ইসলাম নিয়মিত মাসিক ভাড়া পরিশোধ করলেও ২০২৬ সালের মে মাসের ভাড়া দেওয়ার পর থেকে টালবাহানা শুরু করেন। জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি তিনি। একাধিকবার বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলেও টাকা না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন ড্রেজারের মালিক।

হাজেরা বেগমের দাবি, বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে চুক্তি বাতিলের আগে ড্রেজারটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে এনায়েতুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে ড্রেজারটি ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী হাজেরা বেগম জানান, বকেয়া ভাড়া ও ড্রেজার ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার সুবর্ণচরে এসেছেন। প্রতিবারই ড্রেজার বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত জুন মাস থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ফোন বন্ধ রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজাহানকেও অবহিত করেছেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনায়েতুল ইসলাম সুবর্ণচরের ক্রসড্যাম-সংক্রান্ত একটি কার্যক্রমে কাজ করছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু হাজেরা বেগম নয়, আরও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই ধরনের লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েতুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ড্রেজারটি বুঝিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাজেরা বেগম বকেয়া ভাড়া আদায় ও ড্রেজারটি ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অভিযোগ করার পর এনায়েতুল ইসলাম হুমকি ধমকি দিচ্ছে দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ড্রেজারের মূল মালিক হাজেরা বেগমের স্বামী আবুল কালাম আজাদ ওরপে কালাম মৃধা বলেন, এনায়েতুল ইসলাম যে পদে আছে এটা অতি নগন্য পদ সে হুমকি দেবার সাহস করবে না, সে আমার কোন ফোন ধরেনা, আমি যেভাবে আমার ভাড়ার টাকা এবং ড্রেজার ফিরে পেতে পারি সে বিষয়ে সহযোগিতা চাই।