নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের হাসপাতাল সড়কে এক মাসে তিনটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০টি ব্যাগ চুরির খবর পাওয়া গেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ও হতাশায় ভুগছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল সড়কে সিটি হাসপাতালের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালটি নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলামের বাসভবনের পাশেই অবস্থিত।
ভুক্তভোগী রেনেটা ফার্মার মার্কেটিং ম্যানেজার সাগরের হোন্ডা কোম্পানির ১২৫ সিসির হোন্ডা এসপি শাইন মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় চুরির দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এর আগে ইবনে সিনা ফার্মার মার্কেটিং ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনের বাজাজ ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেলটি হাসপাতাল সড়কের ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে থেকে চুরি হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
একই কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার আল আমিনের একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেল চুরির খবর পাওয়া গেলেও সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইনসেপ্টা, জিসকা, হেলথকেয়ার, স্কয়ার, রেনেটা ও অপসোনিনসহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং কর্মকর্তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা ব্যাগও চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টি ব্যাগ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মার্কেটিং কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে কোম্পানীগঞ্জে কর্মরত রয়েছেন। একের পর এক চুরির ঘটনায় তাঁরা হতাশ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বসুরহাট সিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ফয়সাল মাহমুদ বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও ক্যামেরার সামনে থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন কঠোর না হলে শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কী লাভ? প্রশাসন চাইলে এ ধরনের চুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতাল সড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাগ চুরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হোক। পাশাপাশি হাসপাতাল সড়কসহ বসুরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।