নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট মাছ বাজারে গত কয়েক দিন ধরে রুপচাঁদা মাছের মতো দেখতে পিরানহা মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেখতে অনেকটা রুপচাঁদার মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের অনেকে মাছটি চিনতে না পেরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাজারে মাছ কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই মাছের প্রজাতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকায় বাহ্যিক চেহারা দেখে মাছ কিনে থাকেন। এই সুযোগে রুপচাঁদার মতো দেখতে মাছ সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া মাছগুলো পিরানহা কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পিরানহা মাছ চেনার উপায়-

পিরানহা মাছের দেহ সাধারণত চওড়া ও চাপা ধরনের হয় এবং এর মুখে ধারালো দাঁত থাকে। অন্যদিকে রুপচাঁদা মাছের দেহ সাধারণত রুপালি, চ্যাপ্টা ও গোলাকার আকৃতির হয়ে থাকে। প্রজাতিভেদে মাছের চেহারায় পার্থক্য থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে সব সময় সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশে পিরানহা মাছের চাষ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ। এ ধরনের মাছের চাষ ও বিস্তার দেশীয় জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বসুরহাট মাছ বাজারে বিক্রি হওয়া মাছের প্রজাতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত তদারকি এবং মাছের প্রজাতি সম্পর্কে ক্রেতাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ক্রেতাদেরও মাছ কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রুপচাঁদা মাছের নামে অপরিচিত কোনো মাছ বিক্রি করা হলে সেটির পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত।