নোয়াখালী সদর উপজেলার ওদারহাট বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের আইসক্রিম তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব আইসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের ফুড কালার, ঘনচিনিসহ ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি আইসক্রিমের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওদারহাট বাজারে নুর আলমের মালিকানাধীন একটি কারখানায় প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে আইসক্রিম উৎপাদন ও বিপণন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানাটিতে ১৫ টাকা মূল্যের আজমেরী, পেপসি, লাল-সবুজ এবং পাঁচ টাকা মূল্যের ফেমাস ও মালাই আইসক্রিম তৈরি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আইসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমাতে এবং অধিক মুনাফার আশায় সস্তা ও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর প্রকৃত ধরন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কারখানায় উৎপাদিত আইসক্রিমের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা হয় না। এতে পণ্যের মান, নিরাপত্তা ও মেয়াদ সম্পর্কে ক্রেতাদের নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত হচ্ছে।

নোয়াখালী সদরের হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নিম্নমানের আইসক্রিম স্কুলগামী শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সস্তা দামের এসব আইসক্রিমে ক্ষতিকর রাসায়নিক, অনুপযুক্ত রং ও দূষিত পানি ব্যবহার করা হলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, আইসক্রিম তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ধরনের পণ্য গ্রহণের ফলে শিশুরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কারখানাটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে মালিক নুর আলম বলেন, তাঁর কারখানার কোনো অনুমোদন নেই এবং সেখানে কোনো কেমিস্টও নেই। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা লিখলে কী হবে?’

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুমায়রা ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কারখানাটির উৎপাদনপ্রক্রিয়া, ব্যবহৃত উপকরণ, পানির উৎস এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশেষ করে শিশুদের কাছে জনপ্রিয় এসব আইসক্রিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।