নোয়াখালীর সদর উপজেলায় টাকা চুরির অভিযোগে মো. কবির (৩৫) নামে এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
‎
‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
‎
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কবিরকে আহত অবস্থায় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা দেখা যায়। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায় কয়েকজনকে। মঙ্গলবার বিকেলে ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়ে।
‎
‎স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে। ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেনের দাবি, ব্যাগটিতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ঘটনার পর তিনি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে প্রকাশ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহযোগিতা চান।
‎
‎এরপর মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। খবর পেয়ে হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে সেখানে যান।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সেখানে কবিরকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হোসেন ও তাঁর লোকজন তাঁকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যান। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে নেওয়ার পর কবিরের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ একটি দোকানের সামনে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
‎
‎সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। চুরির সন্দেহে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
‎
‎ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবকের মৃত্যু এবং তাঁকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে কবিরের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
‎