নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে টাকা ছাড়া চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু নাছের নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আছদ্দি চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী জানান, তার তিন বছর বয়সী ভাগনি ফাতেমার মাথায় হওয়া একটি ফোড়া নিয়ে চিকিৎসার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান তিনি। সেখানে কর্মরত আবু নাছের ফোড়া দেখতে ১ হাজার টাকা লাগবে বলে দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

তিনি আরও জানান, শিশুটির বাবা মৃত নুরুল হক এবং মা রোজিনা মানুষের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শিশুটি এতিম জানিয়ে আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলার পরও ওই কর্মচারী ১ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ।

পরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস টাকা দিতে সম্মত হলে আবু নাছের শিশুটির ফোড়া ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দেন বলে তিনি জানান। এরপর টাকা দেওয়ার সময় জান্নাতুল ফেরদৌস অনুরোধ করে বলেন, শিশুটির বাবা নেই, তাই ৫০০ টাকা রাখার জন্য। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন আবু নাছের পরদিন ড্রেসিং করাতে আসার সময় ৫০০ টাকা নিয়ে আসতে বলেন এবং টাকা না আনলে আর সেখানে না আসার কথা বলেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু নাছের বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসায় ৫-৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়, আর তিনি ১ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তবে ১ হাজার টাকা দাবি করা তার ভুল হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। এ সময় তিনি ক্যামেরা বন্ধ করার অনুরোধ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে অর্থ দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিশুর পরিচয়:
নাম: ফাতেমা, বয়স: ৩ বছর
পিতা: মৃত নুরুল হক
মাতা: রোজিনা
ঠিকানা: আছদ্দি চৌকিদার বাড়ি, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, বসুরহাট পৌরসভা, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।