ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর মামলার আসামি মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার মাহমুদ বা তার পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণ সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লি ও ভুক্তভোগী দাবিদাররা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দক্ষিণ সালেহপুর এলাকায় অবস্থিত তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়াকফ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ দখলে রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ওয়াকফ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমিতে ঘরবাড়ি, টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া অকার্যকর কমিটির নামে রশিদ বই ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনেরও অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, সরকারি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা আদালতের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা বলেন, ঢাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর স্থানীয় ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

তাদের দাবি, শাহরিয়ার মাহমুদ কারাগারে থাকা অবস্থায়ই ওয়াকফ এস্টেটের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো. মানিক, মো. রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।