বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে AMT Science Club-এর উদ্যোগে আয়োজিত Science Olympiad 2026-এর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ের বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ বাছাই পর্বে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, আগ্রহ, যুক্তিবোধ ও চিন্তাশক্তি যাচাই করা হয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা তৈরি করা এবং নতুন কিছু জানার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ অলিম্পিয়াডের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ অলিম্পিয়াডের বাছাই পর্ব আয়োজন করে AMT Science Club।
প্রথম ধাপে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধা ও ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ের পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
সাইন্স ক্লাবের সদস্য শাহেদুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ের দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে কিছু ব্যতিক্রমী কার্যক্রম রাখারও পরিকল্পনা রয়েছে।
AMT Science Club-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করা, প্রশ্ন করা, যুক্তির মাধ্যমে কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করা এবং গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন AMT Science Club শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির লক্ষ্য বিজ্ঞানকে শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সহজ, আনন্দদায়ক ও বাস্তবভিত্তিকভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা।
আয়োজকরা আশা করছেন, Science Olympiad 2026-এর মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চল থেকেই গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক তৈরির পথ আরও সুগম হবে।