একদিকে ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা, অন্যদিকে সরবরাহ মাত্র ৯ মেগাওয়াট। ফলে রাতভর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়েছেন নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি ব্রেকারে বিস্ফোরণের পর থেকেই দেখা দিয়েছে এ বিদ্যুৎ সংকট। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাইজদীগামী ৩৩ কেভি লাইনের ব্রেকারে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন ধরে যাওয়ার পাশাপাশি কারেন্ট ট্রান্সফরমার (সিটি) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় চৌমুহনী থেকে মাইজদীগামী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন।
বিউবো সূত্র জানায়, মাইজদী শহরে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট। ব্রেকার বিস্ফোরণের পর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দত্তেরহাট সাবস্টেশন থেকে প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ দিয়ে পুরো শহরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এক ঘণ্টা পর পর রোটেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক এলাকায় বিদ্যুৎ চালু থাকলে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে রাতভর চরম ভোগান্তিতে পড়েন শহরের বাসিন্দারা।
২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর রাত প্রায় ১২টার দিকে সরবরাহ আসে। তবে এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর রাতভর ও সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে গরমের মধ্যে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার মেরামত ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনে কাজ করছে বিউবোর টেকনিক্যাল টিম।
নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার বলেন, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণের কারণে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, স্থায়ী মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও রোটেশন ব্যবস্থা চালু থাকবে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
হঠাৎ এই বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন মাইজদীর বাসিন্দারা। এখন তাদের অপেক্ষা—কবে শেষ হবে মেরামতের কাজ, আর কবে ফিরবে শহরের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ।