ছোটবেলায় এক দাদির মুখে শোনা একটি গল্প দিয়েই শুরু করি। মোবাইল ফোন আবিষ্কারের আগে চিঠিপত্রের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের খবর আদান-প্রদান হতো। একদিন একটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে ডাকপিয়ন যাচ্ছিলেন। জমিতে কাজ করা এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি ডাকপিয়নকে বললেন, ‘আপনি তো প্রায়ই আমাদের গ্রামে আসেন, বিভিন্ন মানুষের চিঠি দেন। আমাদের কোনো চিঠি আসে না কেন?’
ডাকপিয়ন জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের পরিবারের কেউ কি বিদেশে বা শহরে থাকেন?’
লোকটি বললেন, ‘না, কেউ বিদেশে থাকে না। তবে আমার ভাই একজন বিদেশ যাবে যাবে বলতেছে।’
গল্পটির মর্ম যেন আজও প্রাসঙ্গিক। আশ্বাস আসে, প্রতিশ্রুতি আসে, কিন্তু বাস্তবায়নের অপেক্ষা যেন শেষ হয় না।
২০২৪ সালের আগস্টে ভয়াবহ বন্যার পানির প্রবল চাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ক্লোজারের রেগুলেটর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ২৬ আগস্ট ২০২৪ সালে ঘটনাটি ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্লোজারটি ভেঙে যাওয়ার পর ছোট ফেনী নদীর দুই তীরে নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে মুছাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণের দাবি ওঠে। এ দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মুছাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণের দাবি ও স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সামনে আসে। পরে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের আমন্ত্রণে মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় তাঁরা স্থানীয়দের কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মুছাপুর রেগুলেটরকে পুরো নোয়াখালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। একই সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পের কথা জানানো হয়।
তবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না। নদীভাঙন, জোয়ারের পানি ও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় মানুষের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উপকূলবাসীর আবেদন-
ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ ও উপকূলীয় মানুষের জানমাল, কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।
মুছাপুর ক্লোজার শুধু একটি অবকাঠামো নয়, উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ।