সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ ধাঁধানো ছবি, ভিডিও ও নানা ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করে প্রথমে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব এবং একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অর্থ দাবি, বিয়ের জন্য চাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠছে। এমন ঘটনায় বিশেষ করে প্রবাসী ও বিবাহিত পুরুষদের কেউ কেউ ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে টিকটকে আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে কিছু নারী পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ইনবক্সে কথোপকথন, বন্ধুত্ব এবং নিয়মিত ফোনালাপের মাধ্যমে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও বা কথোপকথন সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চাইলে শুরু হয় চাপ ও অর্থ দাবির অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ বিয়ের জন্য চাপ দেন। আবার কেউ বিয়ে না করলে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা করার কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বসুরহাটে বিউটি পার্লারে কর্মরত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

এমনই একটি অভিযোগ করেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট এলাকার এক প্রবাসী ও বিবাহিত পুরুষ। তার দাবি, বসুরহাট বাজারের একটি বিউটি পার্লারে কর্মরত এক নারীর সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও ফোনালাপ শুরু হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই নারী বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতেন। পাশাপাশি ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। এখন ওই নারী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ে করতে রাজি না হলে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বলা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, “আমি বিবাহিত। আমার সন্তান রয়েছে। আবেগের বশে আমি ভুল করেছি। বিষয়টি সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যাবে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন আমি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছি। বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানিয়েছি। এতে আমার সংসারও ভাঙনের মুখে পড়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নিয়ে এখন তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা এবং ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্টদের মতে, কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি করা কিংবা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের আতঙ্কিত হয়ে টাকা না দিয়ে আইনগত সহায়তা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কোনো নারী বা পুরুষকে সাধারণভাবে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। ব্যক্তিভেদে ঘটনার বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে এবং অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বসুরহাটের ওই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

সতর্কবার্তা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির আগে পরিচয় যাচাই করা, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।