কোম্পানীগঞ্জের জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থ ও শয্যাশায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের ছেলে তুহিন।

কোম্পানীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া এক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুহিন লিখেছেন, তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ।

বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি জীবনের কঠিন সময় পার করছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো দান-খয়রাত নয়, বরং জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের প্রয়োজন আন্তরিক খোঁজখবর, সাহস ও মানবিক সঙ্গ।

অসুস্থ কিংবা শয্যাশায়ী একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে গিয়ে কিছু সময় কাটানো, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁকে এই অনুভূতি দেওয়া—‘আপনি একা নন, আমরা আপনার পাশে আছি’—এটিও তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

তুহিন আরও লিখেছেন, জাতীয় দিবসগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় দেওয়া নিঃসন্দেহে গৌরবের। তবে জীবিত অবস্থায় বার্ধক্য ও অসুস্থতায় যখন তাঁরা নুয়ে পড়েন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।

কোম্পানীগঞ্জের জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত তাঁদের খোঁজ নেওয়া, তাঁদের কথা শোনা এবং শেষ জীবনে মানসিকভাবে পাশে থাকার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “তাঁরা আমাদের দেশের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।

তাঁদের প্রতি সম্মান শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, জীবিত অবস্থায় তাঁদের পাশে থাকার মধ্য দিয়েও প্রকাশিত হোক।”
নিজের বাবার অসুস্থতার প্রসঙ্গ তুলে তুহিন বলেন, জীবনের এই কঠিন সময়ে তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা—একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যেন অনুভব করেন, তিনি দেশের মানুষের কাছে এখনও মূল্যবান, শ্রদ্ধার এবং কখনোই একা নন।