নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে জমি জোরপূর্বক দখল ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সুমন চন্দ্র দাস, সুজন চন্দ্র দাস ও রিপন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সুদাংসু সুকুমার বিশ্বাসের অভিযোগ, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি কবিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে জমি দখল ও স্থাপনা ভাঙচুরের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর গতকাল (৪ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্তরা লোকজন নিয়ে তার দখলে থাকা জমিতে গিয়ে স্থাপনা ভাঙচুর করে নিয়ে যান। একই সঙ্গে জমিটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সুদাংসু সুকুমার বিশ্বাস আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহায়তা চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরে অভিযুক্তরা স্থাপনা ভাঙচুর করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ তার।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ বিষয়ে সুজন চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীর অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।
সুজন চন্দ্র দাসের দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গার পরিমাণ ১৫ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে সরকারি খাসজমিও রয়েছে এবং তারা সরকারের কাছ থেকে ওই জমির চুক্তি নবায়ন করে নিয়েছেন।
তিনি পুরো বিষয়টি সরেজমিনে এসে যাচাই করার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ জায়গা বুঝিয়ে দিতে তারা প্রস্তুত বলেও জানান।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্যে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি পাওয়া গেছে। প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে কবিরহাট থানা পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।