ঘুমানোর সময় মাথার পাশে কিংবা বিছানায় মোবাইল ফোন রেখে ঘুমানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে।

কেউ অ্যালার্ম দেওয়ার জন্য, আবার কেউ ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও, গেম বা চ্যাটিং করতে করতে ফোন পাশে রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফোন পাশে রাখা নয়, ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করাই বেশি উদ্বেগের বিষয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে এবং পরদিন ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

ঘুম শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, মেজাজ এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই রাতে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

রাতে মোবাইল ব্যবহারে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

১. ঘুম আসতে দেরি হতে পারে
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও, গেম বা চ্যাটিং করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। ফলে বিছানায় যাওয়ার পরও সহজে ঘুম নাও আসতে পারে।

২. ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে
রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্র প্রভাবিত হতে পারে। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে ঘুমের সময়সূচিও অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে।

৩. স্ক্রিনের আলো ঘুমের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে
মোবাইল, ট্যাবসহ বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন থেকে আসা আলো শরীরের ঘুমের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো ঘুমের জন্য সহায়ক।

৪. মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে
ফোনের নোটিফিকেশন, কল, মেসেজ বা অন্যান্য শব্দ ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। আবার ফোন হাতের কাছে থাকলে অনেকে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে সেটি হাতে নিয়ে দেখেন, যা ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে।

৫. সকালে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে
রাতে দেরি করে ফোন ব্যবহারের কারণে ঘুমের সময় কমে গেলে সকালে ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শিক্ষার্থী ও নিয়মিত পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ দিতে হয় এমন ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মোবাইলের বিকিরণ নিয়ে কী জানা যায়?

মোবাইল ফোনে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) বিকিরণ ব্যবহৃত হয়। এটি আয়নীভূত বিকিরণ নয়, অর্থাৎ এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো সরাসরি DNA ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে না। মোবাইল ফোনের RF বিকিরণ ও ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

তবে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারে ক্যানসার হয়, এমন নিশ্চিত ও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাই মোবাইল ফোন পাশে রাখলেই ভয়ংকর কোনো বিপদ হবে, এমন ধারণা করে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং রাতে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার এবং এর ফলে ঘুমের সময় ও মান কমে যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রাতে কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করবেন?

ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় ফোন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। প্রয়োজন না হলে ফোনটি বিছানার একেবারে পাশে না রেখে কিছুটা দূরে রাখা ভালো।

অ্যালার্মের প্রয়োজন হলে ফোন এমন জায়গায় রাখা যেতে পারে, যাতে ঘুমের মধ্যে বারবার হাতে নেওয়ার সুযোগ না থাকে।
এ ছাড়া রাতে Do Not Disturb বা Silent Mode চালু রাখা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং ঘুমানোর আগে গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, মোবাইল ফোন পাশে থাকলেই ক্ষতি হবে, এমন নয়; ঘুমের আগে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।