নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বোরহান উদ্দিন ফায়হান নামে এক নাগরিক। তিনি পেশায় একজন মেরিন অফিসার,২৪ এর জুলাই যোদ্ধা এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এবং ক্ষোভ জানান,
বোরহান উদ্দিন ফায়হান জানান, সকাল ১১টার দিকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সঙ্গে নিয়ে CDC পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নিতে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার থেকে নিয়ম অনুযায়ী একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি সনদ তৈরি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা একজন গ্রাম পুলিশ তাকে জানান, ওইদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান/প্রশাসক অফিসে নেই। পরে সচিবের স্বাক্ষর নিলে সনদ দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে একজন গ্রাম পুলিশ নিজেই সার্টিফিকেট নিয়ে সচিবের স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। বোরহানও তার সঙ্গে সচিবের কক্ষে যান।
তিনি বলেন, সচিব সনদে সিল দেওয়ার পর ওই গ্রাম পুলিশ তাকে জানান, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। এরপর সার্টিফিকেটটি নিয়ে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
পরে কম্পিউটার রুমে থাকা রায়হানের কাছে সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, “তোরে সার্টিফিকেট দিবে না।” এরপর বিষয়টি জানতে সচিবের কাছে গেলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসক এলে সনদ দেওয়া হবে এবং প্রশাসক আগামী সপ্তাহে আসবেন।
বোরহান উদ্দিনের দাবি, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদে অপেক্ষা করেন। এ সময় একই ধরনের সার্টিফিকেট অন্য নাগরিকদের দেওয়া হলেও তাকে সনদ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রমাণ হিসেবে রাখার জন্য তিনি অন্য একজন নাগরিকের সনদের ছবিও সংরক্ষণ করেছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একই ইউনিয়নের অন্য নাগরিকরা যদি একই ধরনের সরকারি সেবা পেতে পারেন, তাহলে তাকে কেন অপেক্ষা করতে হবে?
তিনি আরও বলেন, তার ভাই একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে তার ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের কারণে একজন নাগরিক হিসেবে তার প্রাপ্য সরকারি সেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
বোরহান উদ্দিন বলেন, “আমি আমার ভাই নই। আমি একজন আলাদা মানুষ। আমার নিজের পরিবার আছে, নিজের পরিচয় আছে, নিজের বিবেক আছে।”
তার অভিযোগ, পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বললে তাকে জানানো হয়, প্রশাসক এলে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তবে অন্য নাগরিকদের একই ধরনের সনদ দেওয়ার পর তাকে কেন অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সে প্রশ্নের উত্তর তিনি জানতে চান।
তিনি আরও বলেন, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা তার উদ্দেশ্য নয়। একজন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করাই তার দাবি।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জায়গা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাষ্ট্রের চোখে একজন নাগরিক কি সত্যিই আরেকজন নাগরিকের সমান?”
তার এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নাগরিক সেবা প্রদানে সমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।