কোনো ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘অস্ত্রধারী ক্যাডার’ কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের ‘শেল্টারপ্রাপ্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ, সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব।

বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে সংবাদে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গুরুতর কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

গুরুতর অভিযোগে সতর্কতার আহ্বান
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাস, অস্ত্র বহন, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করলে তার সামাজিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, একটি সংবাদে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যও যথাসম্ভব তুলে ধরা উচিত।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত নয়
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সম্পৃক্ততা কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো তথ্য অনুসন্ধান, যাচাই এবং জনস্বার্থে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা।

প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই তিনি কোনো অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন অনুচিত, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করাও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

তারা বলেন, কোনো অভিযোগ সত্য হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রকাশ করতে গণমাধ্যমের দ্বিধা থাকা উচিত নয়। একইভাবে কোনো অভিযোগের সত্যতা না থাকলে কিংবা পরবর্তী সময়ে তা ভুল বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

দ্রুততার চেয়ে তথ্যের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্রুততার চেয়ে তথ্যের সত্যতা ও নির্ভুলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ভুল বা যাচাই-বাছাইহীন সংবাদ শুধু একজন ব্যক্তির ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

‘বয়কট’ নয়, অনুসন্ধানই সাংবাদিকতার পথ
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বয়কট করার আহ্বান জানানো সাংবাদিকতার দায়িত্ব নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেসক্লাবের বক্তব্য, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং নিরপেক্ষভাবে তথ্য অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জনস্বার্থে তা প্রকাশ করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা গোষ্ঠীগত পক্ষপাত এড়িয়ে পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও যাচাইয়ের আওতায় আসা উচিত। গণমাধ্যমের ভূমিকা হবে সেই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা, কাউকে আগেই অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নয়।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও যাচাই-বাছাইহীন অভিযোগের পরিবর্তে তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।