Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীতে পরীক্ষায় অনিয়মে এক হাজারের বেশি শিক্ষককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক-
নোয়াখালীর খবর-

নোয়াখালীর ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। তিন দফা দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে এসব নোটিশ জারি করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীবা পৃথকভাবে প্রতিটি নোটিশে সই করেন। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরীক্ষা না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

নোটিশে বলা হয়, ২ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
এমনকি কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া, প্রধান শিক্ষককে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং পরীক্ষা নিতে গেলে হেনস্তা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৯টি উপজেলায় কোথাও পরীক্ষার আয়োজন হয়নি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা বলে শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন। সোনাইমুড়ীতে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা নিতে চাইলে সহকারী শিক্ষকরা তাঁকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেলার ৮ জন শিক্ষক নেতাকে বদলি করে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীবা বলেন,
“আন্দোলনের নামে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। অনেক স্থানে প্রধান শিক্ষককে অপমান-নাজেহাল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জোর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছি। তাই এক হাজারের বেশি শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।”

শিক্ষক সমিতির দাবি

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,
“শিক্ষকেরা ন্যায্য দাবির আন্দোলন করেছেন। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা চাই, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের ওপর দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করুন।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

নোয়াখালীতে পরীক্ষায় অনিয়মে এক হাজারের বেশি শিক্ষককে শোকজ

প্রকাশিত: 05:05:27 am, Saturday, 6 December 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক-
নোয়াখালীর খবর-

নোয়াখালীর ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। তিন দফা দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে এসব নোটিশ জারি করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীবা পৃথকভাবে প্রতিটি নোটিশে সই করেন। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরীক্ষা না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

নোটিশে বলা হয়, ২ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
এমনকি কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া, প্রধান শিক্ষককে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং পরীক্ষা নিতে গেলে হেনস্তা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৯টি উপজেলায় কোথাও পরীক্ষার আয়োজন হয়নি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা বলে শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন। সোনাইমুড়ীতে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা নিতে চাইলে সহকারী শিক্ষকরা তাঁকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেলার ৮ জন শিক্ষক নেতাকে বদলি করে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীবা বলেন,
“আন্দোলনের নামে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। অনেক স্থানে প্রধান শিক্ষককে অপমান-নাজেহাল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জোর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছি। তাই এক হাজারের বেশি শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।”

শিক্ষক সমিতির দাবি

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,
“শিক্ষকেরা ন্যায্য দাবির আন্দোলন করেছেন। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা চাই, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের ওপর দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করুন।”