নোয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার অনেক সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে। নতুন বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশ দিয়ে পুরাতন জেলখানা সড়কের সংস্কার কাজ এর অন্যতম উদাহরণ। এলাকাবাসীর দাবি, ছয় মাসে শেষ হওয়ার মতো একটি প্রকল্প সম্পন্ন করতে প্রায় তিন বছর সময় অতিবাহিত হচ্ছে।
উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনাও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার আগের দিন মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মিঠু নামে এক যুবক একটি রিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে খোলা ড্রেনে পড়ে যান। ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় ভেতরে বের হয়ে থাকা রড তার পেটে বিদ্ধ হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা এবং শরীরে ঢুকে যাওয়া মরিচাযুক্ত রডের অংশ অপসারণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের আরও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেগুলো ততটা ভয়াবহ ছিল না। তবে খোলা ড্রেনগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তারা মনে করেন। তাদের প্রশ্ন, কোনো শিশু যদি ওই খোলা ড্রেনে পড়ে যেত, তাহলে পরিস্থিতি কতটা মর্মান্তিক হতে পারত?
এদিকে নতুন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসমুখী সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজও অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অবস্থা মাইজদী বাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়া পুলিশ লাইন সড়কের। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন, খোলা ড্রেনগুলো নিরাপদ করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, যথাযথ নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে নগরবাসী মুক্তি পেতে পারে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত