নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বাড়িতে ভাঙচুর এবং পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বিদ্যুতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে ভৈরব বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক কবির মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ এই বাজারের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী।
প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাকে বিনা অপরাধে ফাঁসিয়ে কোস্ট গার্ড থানায় সোপর্দ করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তার মুক্তি দাবি করছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যুৎকে অন্যায়ভাবে বাজার থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ একজন সাবেক প্রবাসী ও বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। একটি স্থানীয় চক্রের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
বিদ্যুতের মা লুৎফে আরা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে বাজার থেকে হাত বেঁধে বাড়িতে আনা হয়। এরপর ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাঁস-মুরগির খোপ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়। অথচ সন্ধ্যায় আমি নিজেই সেখানে হাঁস-মুরগি বেঁধেছি।”
বিদ্যুতের স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, “আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাও নিয়ে গেছে তারা।”
মানববন্ধনে বক্তারা আরও দাবি করেন, বিদ্যুতের চিৎকার শুনে ডাকাত ভেবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে কোস্ট গার্ড এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ (৩৬) চরকিং ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের হাজি আবুল কালামের ছেলে।
মানববন্ধন শেষে বিদ্যুতের মুক্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎকে আটক করে। পরদিন তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত