সমাজিক বিশ্লেষক হিসেবে মতামত দেন-
মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রাসেল নির্বাহী অফিসার, FBCCI
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব ক্রমেই গভীর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক নেতৃত্ব এমনকি সাধারণ নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পরিচয় আজ অনেক সময় যোগ্যতা, সততা ও মানবিকতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে সমাজব্যবস্থা ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
একসময় মানুষ বিশ্বাস করত— মেধা, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে সম্মান ও অধিকার অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবই হয়ে উঠেছে সাফল্যের প্রধান সিঁড়ি। এতে প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী মানুষ পিছিয়ে পড়ছে, আর অযোগ্যরা প্রভাবের জোরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়গা করে নিচ্ছে। ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং পরিশ্রমের পরিবর্তে ক্ষমতার আশ্রয় খোঁজার প্রবণতা সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব যখন বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে, তখন সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করে— সত্য বা ন্যায় নয়, বরং ক্ষমতাই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। এই অবস্থা সমাজে বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি ও বিভাজনকে আরও উসকে দেয়।
একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে ন্যায়, সততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে। কিন্তু যখন প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ই হয়ে ওঠে প্রধান যোগ্যতা, তখন সামাজিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে। মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য কমে যায়, জন্ম নেয় হিংসা, প্রতিহিংসা ও বিভক্তি। সমাজ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে তার নৈতিক শক্তি ও মানবিক সৌন্দর্য।
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজব্যবস্থা। যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন, নৈতিক শিক্ষার চর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণই পারে সমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে। অন্যথায় অবক্ষয়ের এই অন্ধকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও ভয়াবহ সংকট তৈরি করবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত