এম.এ রহিম- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি দলীয় এক কর্মী হত্যার বিচার দাবি করে ক্ষোভ ও বেদনার বহিঃপ্রকাশ করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, আজ “শহীদ মিলন হত্যা দিবস”। ২০২৫ সালের এই দিনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের মিলনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মিলনকে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করে। পরে পথিমধ্যে তাকে মারধর করে অর্ধমৃত অবস্থায় তুলে দেওয়া হয়, এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত মিলন স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে গেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মিলনের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এবং খোঁজখবর নিতে দলীয় নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে তাঁর ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, যা তাদের জন্য বড় সান্ত্বনা।
স্ট্যাটাসে আবেগঘন ভাষায় কাদের মির্জা লিখেছেন, “খুনির কাছে খুনের বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই। আমি আল্লাহ ও জনগণের কাছে বিচার দিলাম।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্যায়-অবিচারের বিচার একদিন হবেই।
এদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনজীবনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, জনরোষের মুখে একসময় দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
কাদের মির্জার এই স্ট্যাটাস ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তার বক্তব্যকে কেউ দেখছেন একজন নেতার আবেগঘন প্রতিবাদ হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
প্রসঙ্গত, আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাজনীতিতে বরাবরই সরব ও আলোচিত একজন ব্যক্তিত্ব। তার সাম্প্রতিক এই স্ট্যাটাস নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত