সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার থাকলেও নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না—বিশেষ করে নামজারি (মিউটেশন) করতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সেবাগ্রহীতাদের গালিগালাজ ও হয়রানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মো. আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একটি ভিডিওতেও তাকে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামজারি সম্পন্ন করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সেবা পেলেও সাধারণ মানুষের ফাইল মাসের পর মাস ঝুলে থাকে।
আবুল কাশেম নামে এক সেবাগ্রহীতা জানান, “দুই হাজার টাকার কাজের জন্য আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় তিন মাস ধরে ফাইল আটকে আছে।”
অ্যাডভোকেট উত্তম নামে আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, “টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ‘বের হয়ে যা’ বলে ধমক দেয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।”
এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কর্মকর্তা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তার কাছে গেলে ভিক্ষার মতো টাকা চায়। না দিলে ধমক দিয়ে বের করে দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

