নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে সড়কে নেমেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া দেবীপুর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু কামাখ্যা চন্দ্র দাস (৬৪) ও তার অনুসারীদের নানা অনিয়ম ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বরং নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছনার অভিযোগে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া এলাকায় খাল খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর উপস্থিতিতে কামাখ্যা চন্দ্র দাসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
এ সময় পোস্টার ও ব্যানারে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে মোটা অংকের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, দোকান ও সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, “কামাখ্যা চন্দ্র দাসের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।”
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কামাখ্যা চন্দ্র দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো তাদের নজরে এসেছে। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত